Dec. 12, 2017

গত রাত থেকে মন্ট্রিয়ালে এ বছরের প্রথম তুশারের ঝড় শুরু হয়েছে। চলবে দু’রাত দু’দিন। আমি আমার স্ত্রীকে বলছিলাম কিভাবে এখন থেকে আড়াইটা মাস বরফের ভেতর দিন কাটাবো। বৃদ্ধ লোকদের জন্য এখানকার শীতের মৌসুমটা বিপদজনক। তাদের এই সময় হাঁটাচলা নড়াচড়া বেশি হয়না। তাই কিছু বৃদ্ধ লোকের হার্ট য়্যাটাক অথবা স্ট্রোক হয়। আমরা বুড়োবুড়ি সারাদিন কয়েদী হয়ে ঘরে বসে আছি। হঠাৎ কম্পিউটার খুলেই মুক্তিযোদ্ধার পোস্টে নিম্নোক্ত ভিডিওটি দেখলাম।

গ্রাম বাংলা মায়ের ছবি দেখে আনন্দে উল্লসিত হলাম। কি সুন্দর মাটির রাস্তা, পাশে খাল এবং রাস্তার দু’পাশে কলাগাছ। তার চাইতেও বেশি সুন্দর আমার গ্রামের ভাইবোনদের মুখ। শ্রমিকরা বোম্বাই মরিচ গ্রেড করছে এবং এক হিন্দু পরিবারের মা-বোন-ভাইরা উঠানে বোম্বাই মরিচ নিয়ে কাজ করছে। তাদের দেখে প্রথমেই মনে হলো তারা কত গরীব। ওনাদের অনেক দুঃখ, অনেক কষ্ট। ওনাদের ব্যাথা আমি জানি কারণ আমিও একদিন ওনাদেরই একজন ছিলাম। আমি লাঙ্গল-জোয়াল কাঁধে ফেলে গরু দুটো নিয়ে জমি চাষ করতে যেতাম সূর্যোদয়ের আগে। গরু-ছাগল চরাতাম। ধান, খর ও কাঠের বোঝা নিয়ে বাড়ি ফিরতাম। পা দিয়ে ধান মলতাম। আরো কত কি ! কিন্তু কি যেন একটা হয়ে গেলো ! যে কোনোদিন হাই স্কুল শেষ করার স্বপ্ন দেখেনি সে পেলো বিদেশের উচ্ছ শিক্ষা, সন্মান, আর পশ্চিম দেশের প্রাচুর্য। তবে আমি আমার ফেলে আসা ভাইবোনদেরকে কখনো ভুলিনি।

রিপোর্টার ছোট বোনকে আমার খুব ভালো লাগে। আমি দেখেছি যে অসহায় ও দুস্থ লোকদের কথা বলতে গিয়ে তিনি তার সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলছিলেন যে লম্বা পথ হাটতে তার কষ্ট হচ্ছিলো। এটা স্বাভাবিক। তার হাঁটার অভ্যাস নাই। আমি ৪/৫ মাইল হেটে স্কুলে যেতাম। এক ঝুড়ি বেগুন মাথায় করে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে ৩/৪ মাইল দূরে বরিশালের বাজারে বিক্রি করতাম। মাথায় বোঝা নিয়ে ছোট ছোট ইটের সুরকির রাস্তায় খালি পায় হাটা অবশ্য বেদনাদায়ক ছিল।

https://www.facebook.com/mokttichai/videos/756329911219159/

https://www.facebook.com/mokttichai/videos/756329911219159/