১৯৭১ সালের ২৫-সে মার্চ থেকে ১৬-ই ডিসেম্বর প্পর্যন্ত পাকিস্তানি মিলিটারি তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে যে তান্ডবলীলা চালিয়েছিল তা পশ্চিম পাকিস্তানের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের কাছে অজ্ঞাত ছিল। তাদের জন্য বি বি সি রেডিওর খবর শুনাও অবৈধ ছিল। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ বি বি সি বার বার ঘোষণা করছিলো নিয়াজির আত্মসমর্পনের কথা। কিন্তু করাচির রাস্তায় রাস্তায় সেদিন গাড়ির পেছনের মাইক্রোফোন থেকে ঘোষণা করা হচ্ছিলো, “আপনারা বি বি সি-র খবর বিশ্বাস করবেননা। আসলে আমরা পূর্ব পাকিস্তানে জয়ী হচ্ছি।”

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারতীয় বম্বার প্লেনগুলো বার বার করাচিতে এসে বম্বিং করে চলে যেত। যুদ্ধ চলা কালিন একবারও পাকিস্তানের ফাইটার প্লেনগুলো ভারতীয় প্লেনগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেনি। আমি শুনেছি যে পাকিস্তানের সবচাইতে ভালো বম্বার ও ফাইটার প্লেনগুলো রাখা হয়েছিল পাকিস্তানের বর্ডারের কাছে ইরানের এয়ারপোর্টগুলোতে। কারণ পাকিস্তান ভয় করতো যে তাদের প্লেনগুলো পাকিস্তানে থাকলে ভারত সারপ্রাইস য়্যাটাক করে সেগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারতো। কিন্তু যুদ্ধ আরম্ভ হবার সাথে সাথে রাশিয়া ইরানকে নিষেধ করেছিল পাকিস্তানী প্লেনগুলোকে ইরানের মাটি থেকে উড়ে যেতে দিতে।