এটা ১৯৪০ দশকের প্রথম দিকের ঘটনা। রহিমা বিবির বিয়ের বয়স হয়েছে। সে অত্যন্ত সুন্দরী মেয়ে I শরীরের রং ফর্শা। আমাদের গ্রামের সবচাইতে বেশি শিক্ষিতা মেয়ে রহিমা : ফোর পাশ। আমাদের পাশের গ্রামে ছিল এক দুর্দান্ত পরিবার I তারা ছিল ধনী লোক। তারা ধরাকে সরা মনে করত I তারা ঠিক করলো যে রহিমাকে তাদের ছেলেবৌ করে নেবে । একদিন ছেলের বাবা আর চাচা রহিমার বাড়িতে সম্বন্ধ নিয়ে আসলো। মেয়ের বাপচাচার ব্যবহারে তারা রাগ করে চলে গেল। তবে যাওয়ার  আগে তারা বলে গেলো যে তারা সেই মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে তাকে তাদের ছেলের কাছে বিয়ে দেবে। তারা অনেক লোকজন নিয়ে কোন তারিখ আসবে তাও বলে গেলো।

ছেলের পক্ষ সেই নিদৃষ্ট তারিখে ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক নিয়ে রহিমাকে জোর করে নিতে আসলো। আমাদের গ্রামের লোকজন ল্যাজা , সুরকি, রামদা ও লাঠি নিয়ে প্রস্তুত হলো। তারা সবাই আমাদের গ্রামে ঢুকতে যে খালের উপর ছোট পুল ছিল তার এপারে গিয়ে অপেক্ষা করলো। এদিকে আমাদের গ্রামের মেয়েরা কান্নাকাটি করতে লাগলো। তাদের ভয় হচ্ছিলো যে গ্রামের অনেক পুরুষরা সে রাতে খুন হতে পারে। আমার বয়স তখন ৮, ১০ বছর হবে। আমিও ভয়ে কাঁপছিলাম।

ছেলের পক্ষের লোকজন পুলের ওপারে এসে পৌঁছলো। সেখানে কিছুক্ষন অপেক্ষা করে তারা তাদের গ্রামের দিকে ফিরে গেলো। হয়তোবা তারা দেখেছিলো যে আমাদের গ্রামের লোকদের সংখ্যা ও প্রস্তুতি অনেক বেশি ছিল।

আমাদের গ্রামের আরিফ সাহেব ছিলেন ছেলেদের ভেতর সবচাইতে বেশী শিক্ষিত। তিনি আই. এস. সি. পাশ করেছিলেন। তিনি ছিলেন রহিমার ফুপাতো ভাই। তার সাথে রহিমার বিয়ে হলো। তারা খুব সুখের জীবন যাপন করেছেন।