আমি ঠিক করেছি আপনাদেরকে মাঝে মাঝে ক্যানাডার গল্প শোনাব I আমাদের দেশটা অনেক বড় I এ দেশের পূর্ব প্রান্ত থেকে যেট প্লেনে করে পশ্চিম প্রান্তে যেতে ৬ ঘন্টা সময় দরকার হয় I এই দুই প্রান্তের সময়ের তফাতপাঁচ ঘন্টা I আমাদের মানুষের সংখ্যা মাত্র ৩৫ মিলিয়ন I পূর্বাঞ্চলের কুইবেক প্রদেশে শতকরা ৮৪ ভাগ লোক ফরাসী I মন্ট্রিয়াল কুইবেকের বৃহত্তম শহর I এ শহরের চারদিকে নদী এবং মাঝখানে একটা অনেক বড় পাহাড় I এই পাহাড়ের দক্ষিন উপত্যাকায় অবস্থিত বিখ্যাত ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় I আমার বাড়ি ম্যাকগিল থেকে ২০০ ফুট দূরে I আমার মেয়ে এবং তার পরিবার থাকে পাহাড়ের পশ্চিম উপত্যাকায় I কন্কর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আমার বাড়ি থেকে ১ মেইল দূরে I

আমাদের নদীগুলোর অপর পারে অনেক ছোট ছোট শহর আছে I সমস্ত মন্ট্রিয়াল এলাকার বসবাসকারী বাংলাদেশী ভাইবোনদের সংখ্যা হবে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার I আমি এখানে এসেছি ৫৩ বছর আগে I এর পর আরো বেশ কয়েকটা ফ্যামিলি এসেছে ইমিগ্রান্ট হিসাবে I কিন্তু প্রায় ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশীরা শরণার্থী হিসাবে এসেছে ১৯৮২ সালের পর I সুতরাং বলতে গেলে মন্ত্রিয়ালে বাংলাদেশীদের ইতিহাস মাত্র ৩৫ বছরের I এই অল্প সময়ের ভেতরই বেশীরভাগ বাংলাদেশী ভাইবোনরা তাদেরকে ক্যানাডায় ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছে I আমার এই লেখায় ১৯৮২ সালের আগে যারা এসেছে তাদেরকে বলব পুরান বাংলাদেশী, আর যারা পরে এসেছে তাদের বলব নতুন বাংলাদেশী I

বেশিরভাগ পুরানো বাংলাদেশীরা উচ্চ শিক্ষিত I তারা প্রফেসর, ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য প্রফেশনে কাজ করে I তারা এদেশে স্বচ্ছল এবং শান্তিতে জীবন যাবন করেন I নতুন বাঙালিদের অনেকেই ব্যবসা করে I এ দেশ ব্যবসার দেশ I তাই আমাদের বাংলাদেশী ব্যবসাই ভাইবোনেরা তাদের ব্যবসায় অনেক উন্নতি করেছে I আমার মনে হয় এদের অনেকেই মাল্টি মিলিয়নেয়ার I আমার এক বন্ধুর অনেকগুলো শপিং সেন্টার (দোকান নয়, অনেকগুলো দোকানের সেন্টার) আছে I আর এক বন্ধুর আছে অনেকগুলো চেইন রেস্তোরান্ট I এক বন্ধুর আছে পাচশ ভাড়ার ফ্লাট I আরো কয়েকজনের আছে দু’শ থেকে তিনশ ফ্লাট I একশ দেড়শ ফ্লাটের মালিক অনেক আছে I তবে মনে রাখবেন যে অনেক লোক আছে যারা এখনও অন্য লোকের কাজ করে I সবচাইতে বড় কথা হলো যে আমাদের দ্বিতীয় (আমার বেলায় দ্বিতীয় ও তৃতীয়) প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনায় খুব ভালো করছে I এদেশে ডাক্তারি প্রফেশন হলো সবার উপরে I তার পরে ওকালতি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং য়্য়াকাউন্টিং I আমাদের বেশ কয়্র্জন ছেলেমেয়েরা এখন ডাক্তার, পাচ জন মেয়েরা উকিল, এবং অগনিত ছেলেমেয়েরা ইঞ্জিনিয়ারিং, য়্য়াকাউন্টিং এবং অন্যান্য প্রফেশনে কাজ করে I

আমার বাংলাদেশী ভাইবোনদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত I তাদের কোনো সুখবর শোনলে সব সময় আমার প্রানটা ভরে যায় I