আপনি আমাকে পাগল বলতে পারেন কারণ আমি খুব বেশি চিন্তাভাবনা না করে তাত্ক্ষণিকভাবে আমার জীবনের অনেক বড়ো বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ আমার এই সমস্ত সিদ্ধান্তগুলোই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। আয়েশাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তটিও ছিল সেই বড় সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি।
৬১ বছর আগে অকটোবর মাসের এক সন্ধ্যায় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হলের কাছে রাস্তায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তখন আমার বরিশালের বন্ধু অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান সাহেবের সাথে দেখা হয় । আমি তাঁকে বললাম, “আমি বিয়ে করার চিন্তা করছি। আপনি দয়া করে আমার জন্য একজন পাত্রী দেখুন।” তিনি বললেন, “আমার সহকর্মী একজন প্রফেসর সাহেব আছেন। তিনি আসলে একজন সুফী মানুষ। তার একটি মেয়ে আছে। লোকে বলে সে একটা স্বর্ণের মেয়ে ।” আমি আমার ভালো কাজ কখনও ফেলে রাখিনা। তাই পরের দিন সকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত আমতলার কাছে আয়শাকে এক ঝলক তাকিয়ে দেখলাম । তিনি সেদিন একটি শরু পারের সাদা শাড়ি পরেছিলেন । তার চুল এবং কপালের এক অংশ তার শাড়ির আচল দিয়ে ঢাকা ছিল।
ঠিক তাত্ক্ষণিক সময়েই আমি তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম, এবং সেই সিদ্ধান্ত আমার ঘটক বন্ধুকে জানিয়ে দিলাম। সেদিন থেকে ১৭/১৮ দিন পর ১৯৫৯ সালের ১৩ ই নভেম্বর আমরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম।
আমার স্ত্রীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও যত্ন আমার ও আমাদের পরিবারের জন্য এনেছে সুস্বাস্থ্য, সাফল্য ও সুখ। কথায় বলে, “হয় ভারে কাটে না হয় ধাঁরে কাটে। ” আমি ভারে কাটি, অর্থাৎ কঠোর পরিশ্রম দিয়ে আমি আমার কাজ সম্পন্ন করি, আর আমার স্ত্রী তার ধাঁরালো বুদ্ধি দিয়ে সে কাজ সহজেই শেষ করে ফেলেন। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের ছেলে মেয়ে ও নাতি নাতনিরা তার মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে।
গত বছর আমি আমাদের ৬০ তম বিবাহ বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, “আমার ঘটক বন্ধু সাহেব একটু ভুল করেছিলেন। আয়শা স্বর্ণের মেয়ে নয়; তিনি আসলে একজন হীরার মেয়ে।” এই বলে আমি তার গলায় একখানা হীরার হার পরিয়ে দিয়েছিলাম।
আমাদের বিয়ের পরপরই তোলা হয়েছিল প্রথম ছবিটি। দ্বিতীয় ছবিটি তোলা হয়েছে গত বছর আমাদের ৬০-তম বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে।
পেছনে দাড়িয়ে, বা থেকে ডানে : ছেলের বৌ, ছেলে, নাতনি, নাতি, আর এক নাতির স্ত্রী।