আমি উড়োজাহাজকে খুব ভয় পেতাম। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় আমাদের এলাকার উপর দিয়ে অনেক উড়োজাহাজ উড়ে যেত। একদিন একটা উড়োজাহাজ আগুন লেগে আমাদের বাড়ির কাছে পরে গিয়েছি
লো। আর একদিন আমাদের মাথার উপর দিয়ে অনেকগুলো ব্রিটিশ উড়োজাহাজ একটা জাপানিজ উড়োজাহাজকে ধাওয়া করে যাচ্ছিলো। আমি যখন অনেক বড়ো খোলা মাঠে একা হালচাষ, ধান কাটা অথবা ক্ষেতখামারের অন্য কোনো কাজ করতাম তখন দূর থেকে উড়োজাহাজ আসার শব্দ শুনলেই ভয়ে দৌড়িয়ে গিয়ে একটা গাছের নিচে লুকিয়ে থাকতাম। আমি মনে করতাম যে আমাকে না দেখলে পাইলট আমার উপর বোমা ফেলতে পারবেনা, অথবা প্লেনটা আমার উপর ভেঙে পড়লে গাছটা আমাকে রক্ষা করবে। উড়োজাহাজটা যাতে তাড়াতাড়ি আমার্ মাথার উপর থেকে চলে যায় তার জন্য আমি একটা দোয়া পড়তাম। একদিন আমাদের বাড়ির ছকিনা বেগম লক্ষ্য করলো যে আমি প্লেন আসার সাথে সাথে বীর বীর করে কি যেন পড়ছিলাম। তখন আমাদের বাড়ির অনেক লোক উঠানে উপস্থিত ছিল। ছকিনা বেগম সবাইকে বলেই দিলেন, “দ্যাহেন, রব য্যানো বিড় বিড় করয়্যা কি পড়ছে।”
এখন আমি উড়োজাহাজ খুব ভালোবাসি। আমার শ্বশুর বাড়ির উপর দিয়ে উড়োজাহাজগুলো ঢাকার তেজগাঁ এয়ারপোর্টে ওঠা নামা করতো। আমি অনেক সময় ডাইনিং টেবিল ছেড়ে দৌড়িয়ে বের হয়ে গিয়ে উড়োজাহাজগুলো দেখতাম। আমার শ্বশুর হয়তো ভাবতেন যে তিনি তার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন একটা পাগলের কাছে। কোনো একটা নতুন উড়োজাহাজ আসলে আমি এখনও ২০ মাইল গাড়ি চালিয়ে ডরভাল এয়ারপোর্টে যাই সেটা দেখতে। আমি উড়োজাহাজ সম্বন্ধে পড়াশুনাও করি। কিন্তু GV বলে উড়োজাহাজটি সম্বন্ধে গতকাল পর্যন্ত আমি কিছু জানতামনা। আমাদের এক বাংলাদেশী ভদ্রলোক আমেরিকা থেকে এই উড়োজাহাজে চড়ে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলেন। তার কাছ থেকেই প্রথম আমি এই উড়োজাহাজটি সম্বন্ধে জানলাম।
GV Gulfstream উড়োজাহাজটি প্রাইভেট জেট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এর ঘন্টায় স্পিড ৫৮৫ মাইল। এ জাহাজটি ৫১,০০০ ফুট উঁচুতে উড়ে কোথাও না থেমে ৪১৪৭ মাইল যেতে পারে। এর পাইলট ২ জন, কো-পাইলট ২ জন, ও স্টুয়ার্ড/স্টুয়ার্ডেস একজন। বাংলাদেশী ভদ্রলোকের সাথে ছিলেন আরো ৩ জন প্যাসেঞ্জার। তাদের প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ঘুমাবার বিছানা ছিল। উড়োজাহাজটির দাম মাত্র ৬৫ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার। আমার এক নাতি বললো যে ক্যানাডার তরুণ গায়ক যাস্টিন বিভারের একখানা GV Gulfstream উড়োজাহাজ আছে।