আল্লাহ সুবাহানাহু তায়া’লা’ আমাদের দেহকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। তাই এর ভালো যত্ন নেওয়া আমাদের কর্তব্য। জীবনের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের জন্য আমাদের একটি স্বাস্থবান শরীর এবং একটি ভাল মন দরকার। যদি এর মধ্যে একটি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তবে আমাদের পুরো ব্যক্তিত্বই ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এবং আমরা আমাদের সামর্থ্যের সেরা কাজ করতে পারি না। বলাই বাহুল্য, আল্লাহ সুবহানাহু তায়া’লা’র ইবাদত করার জন্যও আমাদের শরীর সুস্থ থাকা দরকার। আমরা কীভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের ভাল যত্ন নেবো তা আমি নীচে বর্ণনা করার চেষ্টা করব। আমি যা বলবো তার বেশিরভাগই আমার নিজের জীবনে পরীক্ষিত। যাদের শরীরে ব্যাধি আছে তাদের জন্য আমার কথাগুলো প্রযোজ্য নয়। তারা তাদের খাবার সম্পর্কে দক্ষ মানুষের সাথে আলোচনা করবেন।
আপনার নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম প্রয়োজন। এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করবেন। আপনার শরীর ভালো রাখতে হলে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আমাদের কী খাওয়া ও পান করা উচিত তা আমি নীচে বর্ণনা করার চেষ্টা করব।
আমার কথাগুলো যাদের সামর্থ আছে তাদের জন্যই প্রযোজ্য। আমি দুঃখিত যে আমি নিজে এক সময় গরিব থাকা সত্ত্বেও এখানে গরিব মানুষের খাবারের ব্যাপারে কিছু বলতে পারলামনা।
আমরা খাওয়া শুরু করব আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নাম নিয়ে, এবং শেষ করব আল্লাহর ধন্যবাদ আদায় করে।
1. কেউ ধূমপান করবেনা। ধূমপান মৃত্যু ঘটায়। আপনার বিল্ডিংয়ে কোনো মেহমানকে ধূমপান করতে দেবেননা।
২. আমাদের আট গ্লাস পানি ও তরল পানীয় পান করতে হবে। কসুম গরম পানি খাবেন। ফ্রিজ-ঠান্ডা পানি কখনো খাবেননা। ভোরে এক গ্লাস পানি, খাবার আগে ও কিছুক্ষন পরে দুই গ্লাস পানি, ও রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানি খেতে হবে। ভোরে এক কাপ চা খাওয়া যেতে পারে। দুধ-চিনি ছাড়া চা খাওয়া ভালো।
3. রান্নাঘরে আমাদের স্বাস্থ্যের দুটি শত্রু আছে: লবণ এবং চিনি। আপনার রান্নায় সামান্য লবণ ব্যবহার করবেন। খাবার টেবিলে সল্ট-শেইকার রাখবেন না। চিনি যত কম খাওয়া যায় অতো ভালো। কিছুটা মধু ও গুড় খেতে পারেন।
4. রান্নার জন্য জলপাইর তেল ব্যবহার করবেন। এই তেল না পেলে নারকেলের তেল ব্যাবহার করবেন। ভাজাপোড়া খাওয়া ভালোনা। রোজার ইফতারের সময়ও ভাজা খাবার খাবেননা।
মশলা ভালো। আদা, রসুন, পেঁয়াজ, হলুদ, দারুচিনি, এলাচ, কালিজিরা ইত্যাদি সবই খুব উপকারী মসলা। লাল মরিচ একটি সুপারফুড। কাঁচা মরিচ আমাদের প্রচুর পরিমাণে C ভিটামিন দেয়।
5. শাক-সবজি ও মাংস বেশি সিদ্ধ করবেননা। আল্লাহ আমাদেরকে দাঁত দিয়েছেন। সেই দাঁতের সদ্ব্যবহার করতে হবে।
6. লাল মাংস স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। তাই গরুর মাংস, ছাগলের মাংস এবং ভেড়ার মাংস এড়িয়ে চলুন। মুরগির মাংস খেতে পারেন। দেশি মুরগির মাংস খেতে চেষ্টা করবেন।
7. সব ধরনের মাছ খাবেন। সামুদ্রিক মাছ খাওয়া ভালো কারণ এতে কোনো রাসায়নিক বস্তু নাও থাকতে পারে। চর্বিযুক্ত মাছও ভালো। চিংড়ি মাছ না খাওয়া ভালো। মনে রাখবেন কৈ মাছের কাটা খুব শক্ত। সে কাটা গলায় আটকালে অসুবিধা হতে পারে।
8. আপনার খাবারের একটি প্রধান অংশ উদ্ভিদ ভিত্তিক হওয়া উচিত। আপনি শাক-পাতা ও সবজি খাবেন। কচুপাতা ও কচুর ডগা, ঢেকি শাক, কলমি শাক পালোন শাক, লাল শাক ইত্যাদি পুষ্টিকর খাদ্য। সব ধরনের সবজিই ভালো। আপনার বাড়িতে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি আলু রাখবেন।
এটা একটা সুপারফুড। পরিবারের সদস্যরা তা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে খাবে।
9. আপনার ডাইনিং টেবিলে প্রচুর পরিমাণে সালাদ রাখুন।
10. আপনাকে ন্যূনতম পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট : ভাত, আটারুটি এবং পাউ রুটি খেতে হবে। অনুগ্রহ করে সিদ্ধ চাল, আটার তৈরি রুটি এবং পুরো গমের পাউ রুটি ব্যবহার করবেন।
11. আপনারা যত বেশি সম্ভব ফল খাবেন। প্রত্যেক দিন একটা কলা খাবেন। আমার রান্নাঘর ফলে ভর্তি। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে ক্যানাডায় সমস্ত রকমের ফল সারা বছর পাওয়া যায়। ফলের দামও বেশিনা।
12. দুধ খাবেন। সম্ভব হলে ছাগলের দুধ খাবেন। দুধ প্রায় পারফেক্ট খাবার । শরীরের যা যা দরকার তার প্রায় সবই দুধে আছে। আমরা ক্যানাডিয়ানরা ভাগ্যবান। এ দেশে অনেক রকমের দুধ পাওয়া যায়: হোল মিল্ক, ২% মিল্ক, ১% মিল্ক, ০ % স্কিম মিল্ক, বাটার মিল্ক, ইত্যাদি। আমাদের যেটা ভালো লাগে বা যেটা আমাদের শরীরে ফিট করে আমরা সে দুধটা খাই। দধিও খাবেন। দধি শরীরের জন্য খুব ভালো।
এই প্রসঙ্গে বলতে পারি যে ক্যানাডার মানুষ ভ্যাজাল কথাটার অর্থ জানেনা। এদেশে ভ্যাজাল বলতে কিছু নাই।
13. মাঝে মাঝে শোয়ার আগে গরম দুধ অথবা পানি দিয়ে এক চামস ইছবগোলের ভুষি খেলে ভালো হয়।
14. সন্ধ্যায় পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে চারটি কাঠ বাদাম (almond ), কয়েকটি কিশমিশ, দুটি শুকনো খেজুর এবং একটি শুকনো ডুমুর। পরদিন সকালে এগুলি খেতে হবে। কিছুক্ষন পরে নাস্তায় আমাদের একটি ডিম, কিছু কার্বোহাইড্রেট, কিছু সিদ্ধ শাকসবজি এবং এক কাপ চা খাওয়া যেতে পারে। সকালের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের ফল বা বাদামেরে স্ন্যাক খাওয়া উচিত। কাঠ বাদাম, কাজু বাদাম, ওয়ালনাট ইত্যাদি ভালো বাদাম। লাঞ্চের সময় আমরা কোনো কার্বোহাইড্রেট নাও খেতে পারি। এই সময়ের খাবারে সালাদ, পনির ইত্যাদির উপর জোর দিতে হবে। বিকেল তিনটা চারটার দিকে আবার কিছু ফল ও বাদাম খেতে হবে। রাতের খাবার শেষ করতে হবে ঘুমের তিন ঘণ্টা আগে।
15, সামগ্রিকভাবে, আমরা আমাদের পেটের
50% শাকসবজি ও পানি দিয়ে পূরণ করব,
25% কার্বোহাইড্রেট, মাছ, ও পানীয় দিয়ে পূরণ করব , এবংবাকি
25% অংশ অবশ্যই খালি রেখে দেব।
দয়া করে আপনি আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নিন, দীর্ঘজীবী হন, এবং আল্লাহর প্রচুর ইবাদত এবং তাঁর সৃষ্টির জন্য বেশি বেশি ভাল কাজ করুন।
আপনারা আমার সুস্বাস্থের জন্য দোয়া করবেন।
FRUIT STORE IN MONTREAL.
May be an image of strawberry and indoor
Mahbubul Haque Syed, Rafiqul Islam and 69 others
12 Comments
Like

 

Comment
Share