যেদেশের সরকার সমস্ত সুবিধাবঞ্চিত — দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, ও সংখ্যালঘু — মানুষদের বিশেষ যত্ন নেয়;
যেদেশের সরকার প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের চারটি অপরিহার্য চাহিদার দায়ীত্ব নেয় — খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা;
যেদেশের গভর্নর জেনারেল একজন আদিবাসী মহিলা;
যেদেশের ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার এবং আবাসন, বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি মিনিস্টার দু’জনই মুসলিম, দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ছিলেন একজন সোমালিয়ার শরণার্থী মুসলিম, আরেকজন শক্তিশালী মন্ত্রী ছিলেন আফগানিস্তানের একজন উদ্বাস্তু মহিলা, এবং একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক মুসলিম;
যেদেশে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত, এবং যিনি ক্যানাডিয়ানদের জন্য সমস্ত ঔষধের অনুমোদন দান করেন তিনি একজন অল্প বয়সের ভারতীয় মহিলা ডাক্তার;
যেদেশে আছে প্রকৃত স্বাধীনতা যার ফলে আপনি যেভাবে চান সেভাবে জীবনযাপন করতে পারেন, আপনি যা চান তাই করতে পারেন, এবং আপনি যা চান তাই বলতে পারেন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি অন্যের অধিকারে আঘাত না দেন;
যেদেশের মানুষ ভ্যাজাল কথাটার অর্থ জানেনা, কারন সেখানে ভ্যাজাল বলতে কিছু নাই;
যেদেশে সিরিয়া থেকে উদ্বাস্তুদের এয়ারপোর্টে স্বাগত জানাতে গিয়ে প্রাইম মিনিস্টার কেঁদে ফেলেন, এবং
যেদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন সামান্যতম নাগরিক ডক্টর আব্দুর রাব্বের মনট্রিয়ালের বাড়িতে এসেছিলেন তার কাছ থেকে ঈদুল আধহার তাৎপর্য জানতে ও বাংলাদেশী খাবার দিয়ে নৈশভোজ করতে;
সেই দেশটির নাম ক্যানাডা। কি একটি সুমধুর নাম! ক্যা না ডা I আলহামদুলিল্লাহ, আমরা যারা ক্যানাডায় বসবাস করি তারা অত্যন্ত ভাগ্যবান।
আমি প্রায় ষাট বছর ধরে আমার ছাত্র-ছাত্রীসহ জনগণকে বলে আসছি যে ক্যানাডায় আপনি যদি সৎ হন এবং কঠোর পরিশ্রম করেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করবেন। মন্ট্রিয়েলের বাংলাদেশি কমিউনিটির সফলতা এর একটি ভালো উদাহরণ। আমাদের কমিউনিটির বেশিরভাগ মানুষ প্রায় 40 বছর আগে এখানে এসেছেন। এদের অনেকেই ক্যানাডায় তাদের নিজেদের দেশের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেনি। তাই তারা বিভিন্ন রকমের ছোট বড়ো কাজ করে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেছে। কখনও কখনও তারা প্রতিদিন দুটা তিনটা কাজ করেছে। এখন আমরা বাংলাদেশিরা একটি প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি। আমি ব্রিটিশ এবং ফরাসী ছাড়া অন্য কোন ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির কথা জানি না যারা এত অল্প সময়ে বাংলাদেশিদের মতো তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।
আমাদের অনেক বাংলাদেশী বন্ধুরা ব্যবসায় অসাধারণ সফলতা অর্জন করেছে। । তাদের অনেকেই বাড়িঘর কেনা, বিক্রি করা, সংস্কার করা ও ভাড়া দেওয়ার ব্যবসায় পারদর্শী। আমি শুনেছি আমাদের কোনো কোনো বন্ধুর ৩০০/4০০ টি ভাড়ার ফ্লাট আছে। ১০০/১৫0 টি ফ্ল্যাটের মালিক নাকি অনেক। কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু বললেন, “স্যার, এই সপ্তায় আমি একটা রাস্তায় ১০০টি বাড়ি কিনেছি।” আমি খুব খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “কত দাম?” তিনি বললেন, “পনেরো মিলিয়ন ডলার ।” এই সপ্তায় আমার এক বন্ধু আমাকে কল করে বললেন, “স্যার, আমার বাড়িটা এক ক্রেতা আসি লক্ষ্ ডলার দিয়ে কিনতে চায়। আমি এই বাড়িটা বিক্রি করবো কিনা তার পরামর্শের জন্য আমি আপনাকে কল কোরেছি।“
“কত ডলার দিয়ে এই ভবনটি কিনেছিলেন?”
“৪৪ লক্ষ্ ডলার দিয়ে।”
“কত বছর আগে?”
“প্রায় ন’বছর আগে। “
ন’বছরে ভবপনটির দাম প্রায় দ্বিগুন হয়ে গেছে। এ রকম খবর মাঝে মাঝে আমার্ বন্ধুদের কাছ থেকে শুনতে পাই।
আমাদের কমিউনিটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্মের তরুণরা এই মহান দেশে চিকিৎসা, প্রকৌশল, আইন এবং অন্যান্য পেশায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।
এখন আমি একটি কঠোর পরিশ্রমী এবং সফলতা অর্জন করা বাংলাদেশী পরিবার সম্পর্কে কয়েকটা কথা বলতে চাই। ভদ্রলোক এবং তার স্ত্রী ২৪ বছর আগে মন্ট্রিয়ালে আসেন। যেহেতু তাদের বাংলাদেশী শিক্ষা কানাডায় খুব একটা কাজে আসেনি, তাই তারা ছোটখাটো কাজে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সে পরিবারের মহিলাটি জীবিকা অর্জন, সংসার চালানো , সন্তানদের লেখাপড়া এবং ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তাদের দুটি বড় সন্তান পড়াশোনা করেছে সেরা ফ্রেঞ্চ প্রাইভেট স্কুলে যেখানে শিক্ষিত হয়েছেন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তার পিতা মহান পিয়ার ইলিয়ট ট্রুডো। তাদের মেয়েটি এখন ডেন্টিস্ট হচ্ছে এবং তাদের ছেলে কম্পিউটার সাইন্সের ডিগ্রি প্রায় শেষ করেছে। তাদের তৃতীয় সন্তান মন্ট্রিয়ালের একটি ভাল আন্তর্জাতিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এই ছেলেমেয়েরা মসজিদের স্কুলে আরবি এবং ইসলামিয়াত শিখেছে। তারা তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা বাংলাও শিখেছে । এরা সবাই ভদ্র, নম্র, বিনয়ী এবং শ্রদ্ধাশীল।
স্বামী-স্ত্রী দুজনে ধীরে ধীরে তাদের সঞ্চয়ের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এখন তারা সাতটি ভবনের মালিক। তারা এই সাতটি ভবনে ৩৩ টি ফ্ল্যাট ভাড়া দেন । তাদের নিজেদের থাকার বাড়িটিও বড় ও সুন্দর। ভদ্রলোক এবং তার স্ত্রীর পিএইচ। ডি ডিগ্রি না থাকতে পারে, বা তারা কোনো কোম্পানির প্রেসিডেন্টের পদে অধিষ্ঠিত না থাকতে পারেন, কিন্তু তারা মানুষকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন এবং যত্ন করেন I তারা মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখলে তাদের সাহায্য করতে ঝাঁপিয়ে পরেন। আমি ও আমার স্ত্রী তাদের ঘনিষ্ট বন্ধু হতে পেরে সম্মানিত বোধ করি।
এই পরিবারের বাড়ির পিছনে একটি বড় সবজি বাগান আছে। সেই বাগানে অনেক ধরনের বাংলাদেশী সবজি চাষ করা হয়েছে। গত শনিবার আমরা তাদের বাড়িতে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। তারা আমাদের জন্য অনেক ধরণের খাবার দিয়ে একটি ভোজের আয়োজন করেছিলেন। আমি দেখলাম ভদ্রমহিলা তাদের প্রতিবেশীদের বাড়িতে খাবার নিয়ে গেলেন। তিনি আমাকে বললেন যে পাশের বাড়িতে বৃদ্ধ ইতালীয়ানরা থাকেন, এবং তারা তার রান্না বাংলাদেশি খাবার খেতে পছন্দ করেন । আমরা যখন তাদের বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলাম তখন তারা অনেক ধরনের বাংলাদেশী সবজি দিয়ে আমার গাড়ির ট্রাঙ্ক ভরে দিলেন ।
১. তাদের বাড়ি ২. মিষ্টি কুমড়া 3. সবুজ বেগুন ৪. বেগুন ৫. . লাউ ৬.. দুন্দুল ৭. কলমি শাক ৮. পাট শাক ৯..চাল কুমড়া
+5
Mohammad Humayun Kabir, Ashfak Chowdhury and 93 others
21 Comments
Like

 

Comment
Share