আমার ঘনিষ্ট বন্ধু সৈয়দ নুরুজ্জামান সাহেব এবং তার স্ত্রী বস্টন থেকে আমাদের মন্ট্রিয়লের বাড়ীতে বেড়াতে এসেছিলেন। নুরুজ্জামান সাহেব এম. আই. টি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছিলেন। ভাবি স্বাস্থ রক্ষা বিষয়ে ডাবল মাস্টার’স ডিগ্রি অর্জন করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ভাই সাহেব কিছুদিন চাকরি করার পর একটা ব্যাবসা আরম্ভ করেন। আলহামদুলিল্লাহ তিনি এই ব্যবসায় অনেক সফলতা অর্জন করেন। আসল কথা হলো যে তার হৃদয়টা সাগরের মতো বড়ো। তিনি বস্টনে স্কুল বিল্ডিং-এর মতো একটা বড়ো বাড়ী করেছেন। অতো বড়ো বাড়ী তৈরী করার উদ্দেশ্য হলো যে বস্টন এলাকায় যে সমস্ত বাংলাদেশীরা আসবে তাদের থাকার জায়গা না থাকলে তারা তার বাড়ীতে থাকবে। আমার ছেলে যখন হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলে পড়াশুনা করতো তখন তিনি এবং ভাবি আমার ছেলে ও তার পরিবারকে তাদের নিজেদের পরিবারের মানুষ হিসাবে দেখাশুনা করেছেন।
নুরুজ্জামান সাহেবের পূর্বপুরুষরা মালদাহ জেলার পান্ডুয়ায় বাস করতেন। নুরুজ্জামান সাহেব সেখানে মেয়েদের জন্য একটা আবাসিক হাই স্কুল তৈরী করেছেন এবং সে স্কুলটি চালাচ্ছেন। সেখানে গরীব ছাত্রীদের টিউশন ফি নাই। তারা স্কুলের পড়াশুনা শেষ করে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুলে থাকে। তাদের জন্য কোচিং এবং খাওয়া দাওয়াও ফ্রি। দূরের গ্রাম থেকে যে গরীব মেয়েরা সেই স্কুলে পড়াশুনাকরতে আসে তারা বিনা খরচে হোস্টেলে থাকে।
নুরুজ্জামান সাহেবের পাণ্ডুয়ার বাড়িতে যে সকল লোক কাজ করেছে তাদের প্রত্যেককে তিনি এখন পেনশন দেন।
বাংলাদেশে নুরুজ্জামান সাহেবের অবদান অনেক। তিনি হাই স্কুল ও কলেজের ৭৫-জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ দেন। তার উদ্দেশ্য হলো ৪০০ ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ দেয়া। বর্তমানে তিনি চাপাই নোয়াবগঞ্জে একটা কিডনি ডায়্যায়ালিসিস সেন্টার তৈরী করছেন। সেখানের চক্ষু হাসপাতালেও তার অবদান অনেক। এ ছাড়া তিনি তার অনেক গরীব আত্মীয়স্বজন ও চাপাই নোয়াবগঞ্জএলাকার অন্যান্য গরীব লোকদেরকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেন।
May be an image of 5 people